Breaking News

পালিয়ে বিয়ে রায়হান-তমা'র, অপহরণের অভিযোগ প্রত্যাহার

শেখ মানিক, নিজস্ব প্রতিবেদক : 
প্রেমের কোন বয়স নেই, নর-নারী শিশু, যুবক, বৃদ্ধ যে বয়সেরই হোক না কেন তার উর্বর মস্তিষ্কে প্রেমের ফসল চাষ হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রেমিক মন মানে না কোন শাসন বারণ। 
জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের কাচিরচর গ্রামের রিপনের মেয়ে ফারিয়া আক্তার তমা (১৭) প্রেমের পড়েন পার্শ্ববর্তী গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে রায়হান (১৯) এর সাথে। পরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। সেই সময় মেয়ের বাবা এই বিষয়টি গোপন করে নিজেই উদ্ধার করেন তাঁর মেয়ে তামা কে। কিন্তু তমা তার প্রেমিককে ভুলতে পারেনি, সে তার প্রেমিক রায়হানকে ফোনে তামার বাড়িতে আসতে বললে, তার ডাকে সাড়া দিলে মেয়ের বাবা রিপন বেধড়ক মারধর করেন। এসময় তমা তার বাবার মারধরের প্রতিবাদ করলে মেয়েকেও মারধর করে। আর সেই চাপা ক্ষোপ, দুঃখ মনেপুষে ঈদুল আযহার পরের দিন সহপাঠীদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে তমা রায়হানের বাড়িতে চলে যায়। তখন তাকে বাড়ীতে না পেয়ে ফোন করে জরুরী ভাবে দেখা করতে বললে সেও পাগলের মত ছুটে আসে। কথা হয়, সেই দিন আরোও পালিয়ে যেতে একমত হয় তারা দুজন। এবারও মেয়ে বাবা নিজে গোপনে খোঁজ খবর করে কোথাও না পেয়ে দুইদিন পর ১৫ আগষ্ট রাতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শিবপুর মডেল থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ করেন । অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে তমা ও রায়হানের প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক করে পালিয়ে গেছে বিষটি নিশ্চিত হয় থানা পুলিশ। এতপর তাদেরকে উদ্ধার করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায় শিবপুর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের তৎপরতা জানতে পেরে গতকাল ১৯ আগাষ্ট ছেলের বাবার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় হাজির হন তারা।
তমা জানায়, 'আমি নিজের ইচ্ছা রায়হানের সাথে পালিয়ে গেছি এর জন্য কেউ দায়ী নয় বা কেউ আমাকে অপহরণ করছে না। আমি আমার নিজের ইচ্ছা পালিয়েছি, কেউ আমাকে জোর করেনি। তাছাড়া আমারা দেড়মাস আগে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে দুজন উপস্থিত হয়ে বিয়ের বিষয়ে একটি এভিডেভিট করছি।
এসময় শিবপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাপসী রাবেয়া সহ এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তির উপস্থিতে তমাকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তমার কথা মতে, অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার বাবা রিপন।
এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা আজিজুল রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অযথা হয়রানি নয়, অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় নয়, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হলে ১৯ আগাষ্ট ছেলের বাবার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় থানায় হাজির হন তারা। পরবর্তীতে তাদেরকে মুচলেখার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

No comments