Breaking News

কবিতা : অতঃপর বঙ্গবন্ধু- রফিকুল নাজিম


সুবে সাদিকের শান্তির বাতাস ঘুরছিলো চারপাশ 
আসসালাতু খায়রুম মিনান নাউম' এর আহবান
তখনো দেয়নি মুয়াজ্জিন; মোরগ দেয়নি ডাক,
তখনো হাসেনি সূর্য,পাখিরা গায়নি গান।
রক্তজবা ফোটার জন্য ব্যস্ত,আনন্দে আটখানা
অথচ সেই মুহূর্তে বত্রিশ নম্বরে হেঁটে যায়
কিছু বুট,কালো মুখোশ,জল্লাদ ক'জনা
জারজ কিছু মগজ উন্মাদ হয় বন্যতায়।
সেদিন ৬৭৭ নম্বরের ব্যালকনিতে ফোটেনি কোন ফুল
ট্রিগার আর বন্দুকের নলে ফোটেছিলো আগুন ফুল,
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল শরীরে গুলি ঢুকেছে নিঃশব্দে
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের হৃদপিণ্ডে গুলি আয়েশ করে।
সিঁড়িতে সেইদিন পরেছিলো মোটা ফ্রেমের কালো চশমা
সেদিন সিঁড়িতে পরেছিলো সিগারেটের পাইপ;বুলেট।
লাউ ফুলগুলো ঝরে পরেছিলো,মড়ক ধরেছিলো শস্যে
পদ্মা মেঘনায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ইলিশের প্রজনন।
সিঁড়িতে থুবড়ে পরেছিলো সখিনা বিবির নিটোল সুখ,
মুখ থুবড়ে পরেছিলো দু'লক্ষ বীরাঙ্গনার পিতৃপরিচয়।
এবং ত্রিশ লক্ষ আত্মার গোঙানিতে মাতম উঠেছিলো
মাতম করছিলো সবুজ গাছ,মাছরাঙা পাখি,শঙ্খচিল।
অথচ ঘাতকের আঙুল কাঁপছিলো ঠকঠক করে
মৃত মানুষের সামনেও কাঁপে বুঝি শয়তানের বুক!
তখনো ঘাতকের বুটের শব্দে কাঁপছিলো ঘুমন্ত শহর,
হতবিহ্বল দেশপ্রেম শব্দটা সেদিন করেনি কোন শোক।
তলোয়ারের মতো সেই তর্জনীটাকে কি ভয়ই না পেয়েছিলো,
নমরুদদের বুকে ভীষণ জল তেষ্টা এঁকেছিলো জলচিত্র,
অথচ বঙ্গবন্ধুর চোখে কোন আর্তি দেখিনি;দেখেছি পতাকা
সেই নির্লিপ্ত চোখে বিশ্ব দেখেছিলো বাংলাদেশের মানচিত্র!
সেইদিন বত্রিশ নম্বরের সিঁড়িতে বিশ্বাস ভেঙেছিলো কাঁচের মতো
ফ্রাইপেনে কই মাছের মতো ছটফট করছিলো নিরেট ভালোবাসা,
সেইদিন বত্রিশ নম্বরের সিঁড়িতে শুধু বঙ্গবন্ধু লুটিয়ে পড়েনি
লুটিয়ে পড়েছিলো প্রিয় বাংলাদেশ এবং আমার সোনার বাংলা।
তারপর....
মহানায়কের বুক থেকে গলগল করে গড়িয়ে যাচ্ছে রক্তধারা
সেই রক্তস্রোত হাঁটছে পুরো বাংলায় এবং আরো সুদূরে বহমান,
মজলুমের শিরা উপশিরায় আজো শুনি ৭ই মার্চের সেই ভাষণ,
আজো দেখি পতাকায় মুচকি হাসছেন শেখ মুজিবুর রহমান। 
কবি রফিকুল নাজিম,  ৫ আগস্ট ২০১৯ ইং।

No comments